একটি নতুন ধর্ম— প্রকৃত মানববিকাশের জন্য।
- communeme4
- May 30, 2020
- 3 min read
Updated: Jun 3, 2020
আজ আপনাদেরকে মানবধর্ম ভিত্তিক আত্ম-বিকাশ বা মনোবিকাশমূলক যুগোপযোগী একটি ধর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রয়াসী হয়েছি। সময়ের চাহিদামতো, আজ এই নতুন ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে, তাও আবার আমাদের এই বাংলাতেই। ধর্মটির নাম — মহাধর্ম।

বিমূর্ত মানবধর্মের মূর্ত রূপই হলো 'মহাধর্ম'
এই ধর্ম প্রচলিত ধর্মগুলির মতো অন্ধবিশ্বাস এবং ঈশ্বরারাধনা ভিত্তিক ধর্ম নয়। 'মহাধর্ম' হলো বিমূর্ত মানব ধর্মের মূর্ত রূপ— প্রকৃত মানব বিকাশমূলক ধর্ম। অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে, সচেতনতার আলোকে জগতকে আলোকময় করে তুলতেই মানবধর্ম— মহাধর্ম-এর আবির্ভাব। ইন্টারনেট তথা সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ধর্মমত প্রায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আত্মবিকাশকামী যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তক অনেক মানুষই ক্রমশ এই ধর্মেরে ভক্ত ও অনুসণকারী হয়ে উঠেছেন। এই ধর্মের প্রবক্তা হলেন— মহর্ষি মহামানস।
মানব ধর্ম— হলো মানুষের প্রকৃত ধর্ম— আদি ধর্ম। আত্ম-বিকাশের ধর্ম। আমরা সেই মানবধর্মকে ভুলে গিয়ে, নানারূপ ধর্ম ও অধর্ম নিয়ে অজ্ঞান-অন্ধের মতো মোহাচ্ছন্ন হয়ে মেতে আছি। চারিদিকে একটু সচেতন দৃষ্টিতে তাকালেই দেখা যাবে— দিনকে দিন ক্রমশ ভয়ানক পরিনতির দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা। আজকের এই ঘোর সঙ্কটকালে— এই সর্বনাশা করুণ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে, অবিলম্বে মানবধর্মকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ক’রে, মানবধর্ম অনুশীলন করতে হবে আমাদের। প্রতিটি মানুষের প্রধান কর্তব্য হলো প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা। পূর্ণ বিকশিত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য অনুশীলণীয় ধর্মই হলো— মহাধর্ম।
মানবধর্ম মানে শুধু সৎ ও সহৃদয় হয়ে ওঠাই নয়, মানবধর্ম হলো পূর্ণ বিকশিত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য অবশ্য পালনীয় ধর্ম। একজন বিকশিত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সৎ ও সহৃদয় হয়ে থাকেন। মানবধর্ম অনুশীলনের মধ্যদিয়েই প্রকৃত মানব-বিকাশ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। মানবজীবনে এক শুভ-পরিবর্তন আসছে মানবধর্ম— মহাধর্ম-এর পথ ধরে।
মহাধর্ম হলো— মানবধর্ম ভিত্তিক অন্ধ-বিশ্বাসমুক্ত মানব-বিকাশমূলক অধ্যাত্মিক-বিজ্ঞান অনুসারী যুগোপযোগী ধর্ম। মহাধর্ম হল— এ’কালের মহা বৈপ্লবিক উত্তাল তরঙ্গ— প্রকৃত মানব বিকাশের জন্য। এ’হলো অত্যুৎকৃষ্ট (সুস্থ—শান্তিপূর্ণ ও যথেষ্ট বিকশিত) জীবন লাভের শ্রেষ্ঠ পথ। মহাধর্ম গ্রহন করতে, এবং দিকে দিকে সংগঠন গড়ে তুলতে, মুক্তমনের সত্যপ্রেমী যুক্তিবাদী আত্ম-বিকাশকামী জ্ঞানপথের উদ্যোগী মানুষদের আহ্বান জানাই।
চতুর্দিকে মানবকেন্দ্রিক যত অশান্তি, যত সমস্যা ও সঙ্কট ক্রমশ ভয়ানক রূপ ধারণ করতে চলেছে, তার অধিকাংশেরই মূল কারণ হলো— জ্ঞান ও চেতনার স্বল্পতা এবং শরীর ও মনের অসুস্থতা। আর, এর একমাত্র সমাধান হলো— সার্বিকভাবে 'মহাধর্ম' অনুশীলন।
শরীর ও মনের সুস্থতাসহ মনোবিকাশ এবং সার্বিক উন্নতি লাভের জন্য ‘মহাধর্ম' গ্রহন করুন, এবং আত্ম-বিকাশ-যোগ অনুশীলন করুন। পূর্বের ধর্ম ত্যাগ না করেও মানব ধর্ম— ‘মহাধর্ম গ্রহণ করা যাবে। এই ধর্ম প্রচলিত ধর্মের মতো নয়। মানুষকে সচেতন ও সুস্থ করে তোলাই এই ধর্মের মূল উদ্দেশ্য।
মানবধর্ম অনুশীলনের মধ্যদিয়েই প্রকৃত মানব-বিকাশ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। মানবজীবনে এক শুভ পরিবর্তন আসছে— মহাধর্ম-এর পথ ধরে।
প্রতিদিন সারা পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত মর্মাহতকর মনুষ্যকৃত যে সমস্ত ঘটনা ঘটে চলেছে, এবং মানুষের যে বিকৃত—বিকারগ্রস্ত—উন্মাদপ্রায় রূপ আমরা অসহায়ের মতো প্রত্যক্ষ ক’রে চলেছি, ধর্ম—রাজনীতি—প্রশাসন প্রভৃতি প্রচলিত কোনো ব্যবস্থা/সিস্টেম-ই তার প্রতিকারে সক্ষম নয়।
আজকের এই ঘোর সঙ্কটকালে— এই ঘোর দুর্দিনে, আগামী সর্বনাশা পরিণতি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে— একমাত্র আধ্যাত্মিক বিপ্লবই আমাদের রক্ষা করতে সক্ষম। তবে আশার কথা, প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার এক প্রবল ঢেউ নেপথ্যে বর্ধিত হয়ে চলেছে। এবং তা' শীঘ্রই ধাবিত হয়ে আসছে। অবিলম্বে তাকে স্বাগত জানাতে হবে— আমাদের নিজেদের স্বার্থেই।
যথার্থ আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে—, যথেষ্ট চেতনার অভাব এবং স্বল্প-জ্ঞান বা অজ্ঞানতাই অধিকাংশ দুঃখ-কষ্ট এবং সমস্যার প্রধান কারণ। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-রাজনীতি এবং প্রচলিত ধর্ম— এর সমাধানে অক্ষম। একমাত্র, প্রকৃত আধ্যাত্মিক শিক্ষাসহ প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতে গঠিত যথার্থ ও সার্বিক আত্মবিকাশ শিক্ষাক্রমের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই এর সামাধান সম্ভব।
মহর্ষি মহামানস-এর মহান মতবাদ— 'মহাবাদ'-ই এনেছে সেই প্রকৃত ও যুক্তিসম্মত অধ্যাত্মবাদের জোয়ার। আধুনিককালের মহাঋষি— সদগুরু মহা মানবপ্রেমিক— মহামানস-এর প্রকৃত জ্ঞান-দর্শন এবং মহা আত্মবিকাশ পথের পথনির্দেশ-ই আমাদের প্রকৃত মুক্তির পথ। অজ্ঞানতা-অন্ধত্ব থেকে উদ্ভূত এই চরম সংকট থেকে নিশ্চিত উধারের একমাত্র পথ। এখনও সময় আছে, আমরা যদি এখনও সেই পথ অবলম্বন ক’রে এগিয়ে যেতে পারি, তাহলেই শেষ রক্ষা হবে।
এখানে যাকিছু বলছি, সবই তাঁর কথা— তাঁর উপদেশ থেকে নেওয়া। শুধু তাই নয়, মহর্ষি মহামানসের 'মহাবাদ' গ্রন্থ থেকে কিছু নির্বাচিত অংশ নিয়ে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রচনাগুলি একত্রিত করেই এই গ্রন্থটি প্রস্তুত হয়েছে।
'মহাধর্ম' আমাদেরকে পরমুখাপেক্ষী ভিখারি হতে শেখায় না। সজাগ-সচেতন স্বাবলম্বী হতে শেখায়। মহাধর্ম আমাদেরকে অজ্ঞান-অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে শেখায় না, বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করতে শেখায়।
নিজেদের তথা মানবজাতির প্রকৃত উন্নয়নে, এই মহাকর্মযজ্ঞে শরিক হোন। মহাধর্ম-এর মনোবিকাশ মূলক শিক্ষার আলো চতুর্দিকে যত বেশি প্রসারিত হবে, মনের অন্ধকার— অজ্ঞান-অন্ধত্ব ততই দূর হয়ে যাবে। আমরা ততই শান্তি-সুস্থতা, আত্মবিকাশ লাভ করতে পারবো। আরও উন্নত, আরও ভালো জীবন লাভ করতে পারবো আমরা।
আরও জানতে হলে, এই ওয়েবসাইটে আসুনঃ


Comments